লিমা বিন
ডাল ও লেগিউম

পুষ্টির মূল তথ্য

লিমা বিন

শুকনোবীজবড় দানা
প্রতি
(11g)
2.38gপ্রোটিন
7.04gমোট শর্করা
0.08gমোট চর্বি
ক্যালরি
37.518 kcal
খাদ্যআঁশ
7%2.11g
ফোলেট
10%43.85μg
কপার
9%0.08mg
ম্যাঙ্গানিজ
8%0.19mg
ম্যাগনেসিয়াম
5%24.86mg
থায়ামিন (B1)
4%0.06mg
আয়রন
4%0.83mg
পটাশিয়াম
4%191.36mg
ফসফরাস
3%42.74mg

লিমা বিন

ভূমিকা

লিমা বিন, যা বিশ্বজুড়ে মাখন বিন বা বাটার বিন নামেও পরিচিত, লেগিউম বা শিম জাতীয় খাদ্যশস্যের একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সদস্য। এর বড় দানা এবং অনন্য গঠন এটিকে অন্যান্য শিম থেকে আলাদা করে তোলে, যা রান্নার পর এক চমৎকার ক্রিমযুক্ত টেক্সচার তৈরি করে। খাদ্যতালিকায় উদ্ভিদজাত প্রোটিন যোগ করার একটি সহজ এবং সুস্বাদু উপায় হিসেবে এটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।

এই বিনের বিশেষত্ব হলো এর মাখনের মতো মসৃণ স্বাদ, যা প্রায় যেকোনো খাবারের সাথে সহজেই মিশে যায়। সাধারণত শুকনো অবস্থায় পাওয়া যায় বলে এগুলো অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং রান্নার আগে ভিজিয়ে নিলে তা নরম ও ঘন হয়ে ওঠে। এর মৃদু স্বাদ এবং পুষ্টিগুণের কারণেই আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতন পরিবারগুলোতে এটি একটি অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠেছে।

রান্নায় ব্যবহার

লিমা বিন রান্না করার সময় প্রথমে এগুলোকে ভালোভাবে ভিজিয়ে রাখা জরুরি, যা রান্নার সময় কমিয়ে আনে এবং বিনের গঠন বজায় রাখে। এরপর এগুলোকে সেদ্ধ করে স্যুপ, স্টু বা বিভিন্ন কারিতে ব্যবহার করা যায়। এর ঘন ও মাখনের মতো টেক্সচার যেকোনো ঝোল বা ঘন তরকারিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে, যা স্বাদে ও পুষ্টিতে পরিপূর্ণ হয়।

এর মৃদু স্বাদ বিভিন্ন মশলা এবং ভেষজ উপাদানের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। রসুন, পেঁয়াজ, টাটকা ধনেপাতা বা লেবুর রসের সাথে এটি সালাদ বা সাইড ডিশ হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। নিরামিষাশীদের জন্য এটি একটি আদর্শ প্রোটিন উৎস, যা দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু বিন বার্গার বা ভারতীয় ধাঁচের মশলাদার ডাল।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

লিমা বিন ডায়েটারি ফাইবার এবং উদ্ভিদজাত প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। এই বিনগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং ম্যাঙ্গানিজ থাকে, যা কোষের স্বাভাবিক গঠন এবং শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া আয়রন এবং পটাশিয়ামের উপস্থিতি শরীরকে প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে হৃদযন্ত্র ও রক্ত সঞ্চালনকে সুস্থ রাখতে সহায়ক।

এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ পদার্থগুলো একে অপরকে সাহায্য করে শরীরের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, যা সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। যেহেতু এটি চর্বিহীন এবং আঁশযুক্ত খাবার, তাই এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক একটি খাবার হিসেবে পরিচিত। যারা একটি সুষম এবং পুষ্টিকর নিরামিষ খাদ্যতালিকা অনুসরণ করতে চান, তাদের জন্য এই বিনগুলো একটি আদর্শ সংযোজন।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

লিমা বিনের উৎপত্তিস্থল মূলত দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, যেখানে কয়েক হাজার বছর ধরে স্থানীয় মানুষ এর চাষাবাদ করে আসছে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, পেরুর রাজধানী লিমার নামানুসারেই এই বিনের নামকরণ করা হয়েছে, কারণ সেখানে প্রাচীনকাল থেকেই এটি একটি প্রধান খাদ্য ছিল। কৃষি বিপ্লবের সময় থেকেই এটি আমেরিকান মহাদেশের মানুষদের অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে গণ্য হতো।

পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক পথ প্রসারের সাথে সাথে এই বিন ইউরোপ এবং এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। এর চমৎকার সংরক্ষণ ক্ষমতা এবং পুষ্টিগুণ এটিকে সমুদ্রগামী নাবিক এবং ভ্রমণকারীদের জন্য একটি জনপ্রিয় খাদ্যদ্রব্যে পরিণত করেছিল। বর্তমানে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থানীয় রান্নায় ভিন্ন ভিন্ন রূপে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা এর সাংস্কৃতিক বহুমুখিতার পরিচয় দেয়।