মুলা শাকের অঙ্কুর
শাকসবজি

পুষ্টির মূল তথ্য

মুলা শাকের অঙ্কুর

কাঁচাঅঙ্কুরিতসম্পূর্ণ
প্রতি
(38g)
1.45gপ্রোটিন
1.37gমোট শর্করা
0.96gমোট চর্বি
ক্যালরি
16.34 kcal
ভিটামিন C
12%10.98mg
ফোলেট
9%36.1μg
নিয়াসিন (B3)
6%1.08mg
ভিটামিন B6
6%0.11mg
প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড (B5)
5%0.28mg
কপার
5%0.05mg
ম্যাঙ্গানিজ
4%0.1mg
ম্যাগনেসিয়াম
3%16.72mg

মুলা শাকের অঙ্কুর

ভূমিকা

মুলা শাকের অঙ্কুর বা রেডিশ স্প্রাউটস হলো মুলা বীজের সদ্য গজিয়ে ওঠা ছোট চারা, যা মূলত মাইক্রোগ্রিন হিসেবে পরিচিত। অত্যন্ত অল্প সময়ে উৎপাদিত এই অঙ্কুরগুলো তাদের সতেজতা এবং পুষ্টিগুণের জন্য আধুনিক খাদ্যতালিকায় একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এগুলি আকারে ছোট হলেও স্বাদে বেশ তীক্ষ্ণ এবং ঝাঁঝালো, যা যে কোনো খাবারে এক নিমেষে সজীবতা যোগ করতে সক্ষম।

প্রকৃতির এক অনন্য দান হিসেবে গণ্য এই স্প্রাউটসগুলো সাধারণত কোনো জটিল প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই সরাসরি ভক্ষণ করা হয়। এর উজ্জ্বল রঙ এবং হালকা মচমচে ভাব খাবারের উপস্থাপনকে আকর্ষণীয় করে তোলে, যা পুষ্টি সচেতন ব্যক্তিদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। সবজি হিসেবে এর ব্যবহার বহুমুখী এবং এটি যে কোনো ঋতুতেই ঘরে বসে খুব সহজে তৈরি করা সম্ভব।

রান্নায় ব্যবহার

মুলা শাকের অঙ্কুর কাঁচা খাওয়ার অভ্যাস সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, কারণ রান্নার উত্তাপে এর বিশেষ স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে। সালাদে টপিং হিসেবে অথবা স্যান্ডউইচের ভেতরে এটি ব্যবহার করলে এক ভিন্নধর্মী ঝাঁঝালো স্বাদ পাওয়া যায়। গ্রিন স্মুদিতে সামান্য পরিমাণে যোগ করলে তা পানীয়র পুষ্টির মান কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

এর স্বাদ বেশ প্রবল, তাই এটি বিভিন্ন ধরনের চিজ, ডিমের অমলেট, বা হালকা স্যুপের উপরে গার্নিশিং হিসেবে দারুণ মানিয়ে যায়। লেবুর রস, অল্প অলিভ অয়েল এবং সামান্য লবণের সাথে মিশিয়ে এটি একটি দুর্দান্ত সাইড ডিশ হিসেবে পরিবেশন করা হয়। ভারতীয় খাবারে অনেক সময় এটি ডালের সাথে ছড়িয়ে দিয়ে স্বাদ ও স্বাস্থ্যের মেলবন্ধন ঘটানো হয়।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

মুলা শাকের অঙ্কুর ভিটামিন সি-এর একটি চমৎকার উৎস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে উপস্থিত বিভিন্ন বি-ভিটামিন যেমন ফোলেট এবং নিয়াসিন শরীরের শক্তি বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে, যা আপনাকে সারা দিন সতেজ থাকতে সাহায্য করে। এই অঙ্কুরগুলো শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জোগান দেয়, যা কোষের সুরক্ষা এবং সামগ্রিক সুস্থতায় অপরিহার্য।

এর মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের মতো খনিজ পদার্থগুলো হাড়ের স্বাস্থ্য এবং হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। যেহেতু এটি খুব কম ক্যালরিযুক্ত একটি খাবার, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাদ্যতালিকাগত সংযোজন। এই প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদানগুলো সম্মিলিতভাবে শরীরকে সচল রাখতে এবং বিপাকীয় জটিলতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

মুলা বা Raphanus sativus উদ্ভিদটির উৎপত্তি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বলে মনে করা হয়, যেখান থেকে এটি প্রাচীনকাল থেকেই খাদ্য ও ঔষধি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যদিও প্রাচীনকাল থেকেই মুলার মূল খাওয়া হতো, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অঙ্কুরিত বীজ বা স্প্রাউটসের উপকারিতা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মূলত পুষ্টিবিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে এই সুপারফুডটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে অনেক সংস্কৃতিতেই মুলা এবং এর শাক হজমশক্তি বাড়াতে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি ঘটাতে ব্যবহৃত হতো। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং ঘরোয়া সবজি চাষের প্রসার ঘটার সাথে সাথে রেডিশ স্প্রাউটস আজ বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের হেঁশেলে পৌঁছে গেছে। এটি এখন শুধু একটি সবজি নয়, বরং আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাত্রার এক অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে।