মংকফিশ
মাছ ও সামুদ্রিক খাবার

পুষ্টির মূল তথ্য

মংকফিশ

কাঁচাশাঁস
প্রতি
(85g)
12.31gপ্রোটিন
0gমোট শর্করা
1.29gমোট চর্বি
ক্যালরি
64.6 kcal
সেলেনিয়াম
56%31.02μg
ভিটামিন B12
31%0.76μg
ফসফরাস
13%170mg
ভিটামিন B6
12%0.2mg
নিয়াসিন (B3)
11%1.78mg
পটাশিয়াম
7%340mg
ম্যাগনেসিয়াম
4%17.85mg
রিবোফ্লাভিন (B2)
3%0.05mg

মংকফিশ

ভূমিকা

মংকফিশ বা অ্যাংলার ফিশ হলো এক ধরণের সামুদ্রিক মাছ, যা তার অদ্ভুত চেহারার কারণে সমুদ্রের শয়তান বা 'সি ডেভিল' নামেও পরিচিত। এদের চেহারা যেমনই হোক না কেন, রন্ধনশৈলীতে এই মাছটি তার অতুলনীয় স্বাদের জন্য সারা বিশ্বে সমাদৃত। মংকফিশের মাথার অংশটি বেশ বড় হলেও এর লেজের মাংস খুবই সুস্বাদু এবং দৃঢ় কাঠামোর হয়।

এই মাছটি মূলত গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায় এবং এর শিকার করার ধরণ অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এদের মাথার উপর একটি বিশেষ অঙ্গ থাকে যা অনেকটা টোপের মতো কাজ করে এবং অন্য মাছকে আকৃষ্ট করে। এদের চামড়া ছাড়াই সাধারণত বাজারজাত করা হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য মাছটি পরিষ্কার করা সহজ করে তোলে।

রান্নায় ব্যবহার

মংকফিশের গঠন অনেকটা গলদা চিংড়ির মাংসের মতো দৃঢ়, তাই একে রান্নার সময় ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে না। এই মাছটি গ্রিল করা, রোস্ট করা কিংবা স্টু তৈরির জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। উচ্চ তাপে রান্না করলেও এর মাংস তার গঠন ও রসালো ভাব বজায় রাখে।

মংকফিশের মাংসের স্বাদ মৃদু কিন্তু কিছুটা মিষ্টি প্রকৃতির, যা বিভিন্ন ধরণের মশলা এবং হার্বসের সাথে চমৎকারভাবে মিশে যায়। মাখন, রসুন, লেবুর রস এবং পার্সলে দিয়ে হালকা করে ভাজা মংকফিশের স্বাদ অতুলনীয়। এটি প্রায়শই বিভিন্ন ফরাসি স্যুপ এবং সি-ফুড কারিতে ব্যবহৃত হয়।

এই মাছের মাংসের দৃঢ়তা একে কাবাব তৈরির জন্যও আদর্শ করে তোলে। ভারতীয় রন্ধনশৈলীতে মংকফিশের টুকরো দই এবং ঐতিহ্যবাহী মশলা দিয়ে ম্যারিনেট করে তন্দুরে ঝলসানো যেতে পারে। সামুদ্রিক খাবারের অনুরাগী যারা একটু ভিন্ন স্বাদের মাছের খোঁজ করেন, তাদের জন্য মংকফিশ একটি চমৎকার পছন্দ।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

মংকফিশ অত্যন্ত উচ্চমানের প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস, যা পেশির গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে সরাসরি সাহায্য করে। এই মাছ সেলেনিয়ামের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ উৎস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং থাইরয়েড গ্রন্থির সঠিক কার্যকারিতায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

সামগ্রিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে মংকফিশ ভিটামিন বি১২-এর একটি শক্তিশালী আধার, যা স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা এবং শরীরে শক্তির বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ফসফরাস হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হয়।

প্রাকৃতিকভাবেই এতে ক্যালরির পরিমাণ বেশ কম থাকায়, যারা স্বাস্থ্যকর অথচ তৃপ্তিদায়ক খাবারের খোঁজ করছেন, তাদের জন্য মংকফিশ একটি আদর্শ সামুদ্রিক মাছ। এটি হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদী শক্তির উৎস হিসেবে ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

মংকফিশ প্রধানত আটলান্টিক মহাসাগরের গভীর অঞ্চলে পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি, কারণ একসময় এই মাছকে মাছ ধরার জালের অপ্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে দেখা হতো। তবে রন্ধনশিল্পীদের উদ্ভাবনী শক্তির কারণে এটি এখন বিশ্বজুড়ে এক অভিজাত মৎস্য হিসেবে পরিচিত।

পাশ্চাত্য দেশগুলোতে, বিশেষ করে ইউরোপীয় রন্ধনধারায় মংকফিশ দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মাছটি মূলত গভীর সমুদ্রের শিকারী মাছ হিসেবে পরিচিত, যা আদি সামুদ্রিক জীবনচক্রের একটি অংশ। কালক্রমে এর অনন্য গঠন এবং স্বাদ রন্ধনবিশারদদের নজর কাড়ে এবং আধুনিক সি-ফুড মেনুর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

বিশ্বজুড়ে মংকফিশের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে বর্তমানে এর বাণিজ্যিক আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এক সুশৃঙ্খল ধারায় পরিচালিত হয়। সামুদ্রিক মাছের আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা এখন তুঙ্গে, যা মাছটিকে শুধুমাত্র একটি স্থানীয় মাছ থেকে বিশ্বজনীন রন্ধন উপকরণের মর্যাদা দিয়েছে।