বাটারমিল্ক
কম চর্বিযুক্তদুগ্ধজাত খাবার

পুষ্টির মূল তথ্য

গাঁজন করা
প্রতি
(31g)
1.25gপ্রোটিন
1.62gমোট শর্করা
0.61gমোট চর্বি
ক্যালরি
17.136 kcal
রিবোফ্লাভিন (B2)
4%0.06mg
ভিটামিন B12
4%0.11μg
ক্যালসিয়াম
3%43.76mg
ফসফরাস
2%25.09mg
সোডিয়াম
1%32.13mg
সেলেনিয়াম
1%0.7μg
থায়ামিন (B1)
1%0.02mg
পটাশিয়াম
1%55.08mg

বাটারমিল্ক

ভূমিকা

বাটারমিল্ক বা ঘোল হলো দুগ্ধজাত পণ্যের একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর অংশ, যা মূলত দই থেকে মাখন আলাদা করার পর অবশিষ্ট অংশ হিসেবে পরিচিত। প্রাচীনকাল থেকেই এটি ভারতীয় উপমহাদেশের গ্রাম ও শহরের মানুষের খাদ্যতালিকায় এক অপরিহার্য পানীয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। শরীর শীতল রাখতে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধিতে এর জুড়ি মেলা ভার।

প্রথাগতভাবে, এটি বাড়িতে তৈরি দইকে মন্থন বা ঘুঁটে মাখন বের করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় দুধের গাঁজন বা ফারমেন্টেশনের মাধ্যমেও এটি প্রস্তুত করা হয়। এর স্বাদ কিছুটা টক এবং গঠন বেশ হালকা ও পানীয়যোগ্য, যা বিশেষ করে গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রশান্তি প্রদান করে।

রান্নায় ব্যবহার

বাটারমিল্ক সরাসরি পানীয় হিসেবে উপভোগ করা যায়, তবে এতে সামান্য লবণ, ভাজা জিরার গুঁড়া, ধনেপাতা বা কাঁচামরিচ যোগ করলে এর স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়। অনেকে এতে পুদিনা পাতার কুচি মিশিয়ে একে আরও সতেজ করে তোলেন। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মশলাযুক্ত বাটারমিল্ক বা 'ছাঁচ' অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পানীয়।

রান্নার ক্ষেত্রে এটি একটি চমৎকার উপাদান হিসেবে কাজ করে। নরম ও তুলতুলে কেক, প্যানকেক বা বিস্কুট তৈরির ব্যাটারে বাটারমিল্ক ব্যবহার করা হয়, কারণ এর অম্লতা বেকিং সোডার সাথে বিক্রিয়া করে মিশ্রণকে ফুলিয়ে তোলে। এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের গ্রেভি বা ঝোল জাতীয় তরকারিতে এটি ঘন ও ক্রিমি টেক্সচার আনতে ব্যবহৃত হয়।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

বাটারমিল্ক ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা মজবুত হাড় ও দাঁত গঠনে সরাসরি সহায়তা করে। নিয়মিত এটি গ্রহণ করলে শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের ভারসাম্য বজায় থাকে। এছাড়াও, এতে থাকা ভিটামিন বি ১২ স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে এবং শরীরে শক্তির মাত্রা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হওয়ার কারণে এতে প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। উচ্চমাত্রার জলীয় উপাদানের কারণে এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে, যা পানিশূন্যতা রোধে একটি প্রাকৃতিক সমাধান। এটি চর্বির পরিমাণ কম হওয়ায় সুষম খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের জন্য একটি হালকা ও তৃপ্তিদায়ক পছন্দ।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

বাটারমিল্কের ইতিহাস দুগ্ধজাত পণ্য তৈরির ইতিহাসের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। অতীতে যখন মাখন সংরক্ষণের জন্য দুধ থেকে আলাদা করার প্রয়োজন হতো, তখন অবশিষ্ট তরল অংশটি নষ্ট না করে পানীয় হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার গ্রামীণ পরিবারগুলোতে এটি ছিল দৈনন্দিন আহারের অংশ।

ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন দেশে বাটারমিল্ক তৈরির পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, এটিকে কেবল উপজাত হিসেবে দেখা হতো না, বরং এর পুষ্টিগুণ ও শীতলকারী গুণের কারণে এটি চিকিৎসা শাস্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেও বিবেচিত হতো। আজও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের সাথে এটি নানাভাবে গ্রহণ করে আসছে।