নেভল কমলা
ফল

পুষ্টির মূল তথ্য

নেভল কমলা

কাঁচাখোসা সহসম্পূর্ণনেভল
প্রতি
(140g)
1.27gপ্রোটিন
16.52gমোট শর্করা
0.21gমোট চর্বি
ক্যালরি
65.8 kcal
খাদ্যআঁশ
10%2.8g
ভিটামিন C
91%82.74mg
কপার
9%0.09mg
ফোলেট
8%35μg
থায়ামিন (B1)
7%0.1mg
প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড (B5)
7%0.37mg
ভিটামিন B6
6%0.11mg
রিবোফ্লাভিন (B2)
5%0.07mg
পটাশিয়াম
4%232.4mg

নেভল কমলা

ভূমিকা

নেভল কমলা তার স্বতন্ত্র স্বাদের জন্য বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। এই কমলা লেবুর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর নিচের দিকে থাকা ছোট গর্ত বা 'নাভি', যা একে সাধারণ মাল্টা বা কমলা থেকে আলাদা করে তোলে। খোসা ছাড়ানো সহজ এবং ভেতরের অংশটি রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় এটি জলখাবার হিসেবে অত্যন্ত সুবিধাজনক।

প্রাকৃতিক এই ফলটি তার উজ্জ্বল কমলা রঙের জন্য পরিচিত, যা যেকোনো খাবারের টেবিলে সতেজতা নিয়ে আসে। সাধারণত শীতকালীন ফসল হলেও বর্তমানে উন্নত কৃষি প্রযুক্তির কল্যাণে এটি সারা বছর পাওয়া যায়। এর অনন্য গঠন এবং মিষ্টি স্বাদের কারণে এটি শিশুদের কাছে যেমন প্রিয়, তেমনি বড়দের মধ্যেও জনপ্রিয়।

রান্নায় ব্যবহার

নেভল কমলা কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়। এর কোয়াগুলো সালাদে যোগ করলে তা খাবারে এক ধরণের প্রাকৃতিক মিষ্টতা ও সতেজতা যোগ করে। এছাড়া কমলার খোসা বা জেস্ট কেক, মাফিন কিংবা বিভিন্ন ডেজার্টে সুগন্ধ আনার জন্য দারুণ কার্যকর।

এটি জুস বা স্মুদি হিসেবে পান করার পাশাপাশি ফলের চাট তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়। বিট লবণ ও সামান্য মসলার সাথে এর মিশ্রণ দক্ষিণ এশীয় রসনা বিলাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। দইয়ের সাথে বা ফলের সালাদের ড্রেসিং হিসেবেও এর রস ব্যবহার করা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি উপায়।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

নেভল কমলা ভিটামিন সি-এর একটি চমৎকার উৎস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এতে থাকা প্রচুর ফাইবার পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে এবং হজমে সহায়তা করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। এর নিয়মিত গ্রহণ শরীরের কোষগুলোকে সতেজ রাখে এবং প্রদাহজনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

এই ফলে থাকা পটাশিয়াম এবং ফোলেট হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রচুর জলীয় উপাদান থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, যা গরমের দিনে অত্যন্ত প্রয়োজন। এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং ত্বকের লাবণ্য বজায় রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

নেভল কমলার উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ থাকলেও মনে করা হয় এটি ব্রাজিলের একটি মিউট্যান্ট বা প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফসল। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে এটি প্রথম শনাক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে এর জনপ্রিয়তার কারণে এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর সুমিষ্ট স্বাদের কারণে অতি দ্রুত এটি বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলে পরিণত হয়।

ইতিহাস পরিক্রমায় নেভল কমলা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও কৃষি অর্থনীতিতে এক বড় স্থান দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে এর ব্যাপক চাষাবাদ হয়। ঐতিহাসিকভাবে এটি ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত সমস্যা দূরীকরণেও একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যা আজও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে সমাদৃত।