টারটার সস
চাটনি ও সস

পুষ্টির মূল তথ্য

টারটার সস

প্রতি
(30g)
0.3gপ্রোটিন
3.99gমোট শর্করা
5.01gমোট চর্বি
ক্যালরি
63.3 kcal
খাদ্যআঁশ
0%0.15g
ভিটামিন K (ফাইলোকুইনোন)
12%15.12μg
সোডিয়াম
8%200.1mg
ভিটামিন E
3%0.5mg
ম্যাঙ্গানিজ
1%0.03mg
ভিটামিন B6
0%0.01mg
ভিটামিন C
0%0.69mg
কপার
0%0.01mg
রিবোফ্লাভিন (B2)
0%0.01mg

টারটার সস

ভূমিকা

টারটার সস হলো একটি জনপ্রিয় ঠান্ডা মশলা বা কনডিমেন্ট, যা সাধারণত মেয়োনিজের সাথে কুচানো শসা বা আচার, ক্যাপার এবং ভেষজের মিশ্রণে তৈরি করা হয়। এর গঠন বেশ ঘন এবং স্বাদ কিছুটা টক ও নোনতা ধাঁচের হয়, যা ভাজা খাবারের স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। এটি বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে মাছের বিভিন্ন পদের সাথে অনুষঙ্গ হিসেবে সমাদৃত।

এই সসটি তার অনন্য টেক্সচার এবং স্বাদের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য পরিচিত। কুচানো উপাদানের ব্যবহার একে একটি চমৎকার দানাযুক্ত আকার দেয়, যা মসৃণ মেয়োনিজের সাথে মিশে এক অপূর্ব সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা তৈরি করে। এটি রান্নার জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম, যা খুব সহজে এবং দ্রুত যেকোনো সাধারণ খাবারকে অসাধারণ করে তুলতে পারে।

রান্নায় ব্যবহার

টারটার সস মূলত মাছের ফ্রাই বা ফিলে খাবারের সঙ্গী হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর টক ভাব এবং নোনতা স্বাদ ভাজা খাবারের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাবকে চমৎকারভাবে প্রশমিত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্বাদ প্রদান করে। এটি তৈরির সময় মেয়োনিজের সাথে লেবুর রস বা ভিনেগার মেশানো হয়, যা একে আরও সতেজ করে তোলে।

মাছ ছাড়াও এটি সি-ফুড বা সামুদ্রিক খাবারের সাথে দারুণ মানিয়ে যায়, যেমন চিংড়ির চপ বা ফিশ কাটলেট। কিছু ক্ষেত্রে স্যান্ডউইচ বা বার্গারে স্প্রেড হিসেবেও এটি ব্যবহার করা হয়, যা খাবারকে দেয় এক অনন্য স্বাদ। ভাজা আলুর চপ বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের সাথে ডিপ হিসেবে এটি অনেকের কাছেই প্রিয়।

তাজা পার্সলে বা ডিল পাতা যোগ করলে এর স্বাদে এক চমৎকার সতেজ ঘ্রাণ পাওয়া যায়। বাড়িতে তৈরি করার সময় আচারের ছোট ছোট টুকরো একে দারুণ ক্রাঞ্চি বা মুচমুচে অনুভূতি দেয়। এটি পরিবেশনের সময় ঠান্ডা রাখলে এর স্বাদ সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

টারটার সস মূলত তার স্বাদ এবং খাদ্যোপযোগিতার জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে থাকা মেয়োনিজ এবং অন্যান্য উপকরণের মাধ্যমে এটি ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত শক্তির একটি ভালো উৎস হিসেবে কাজ করে। এই ধরনের মশলা সাধারণত পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা হয়, যা খাবারের স্বাদে গভীরতা যোগ করে।

যেহেতু এটি একটি ক্যালোরি-ঘন খাবার, তাই এটিকে সুষম ডায়েটের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। এর মধ্যে থাকা কিছু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন ভিটামিন কে খুব সামান্য পরিমাণে থাকলেও, এটি মূলত একটি স্বাদবর্ধক হিসেবে কাজ করে। একে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি উৎসবের বা বিশেষ দিনের অনুষঙ্গ হিসেবে উপভোগ করাই শ্রেয়।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

টারটার সসের নামের উৎস নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। অনেকে মনে করেন এর নামকরণ করা হয়েছে ফরাসি শব্দ 'সস তারতারে' থেকে, যার সাথে মধ্য এশিয়ার তাতার গোষ্ঠীর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। এটি মূলত ফরাসি রন্ধনশৈলীর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করে।

ঐতিহাসিকভাবে এই সসটি বিভিন্ন ভাজা মাছের সাথে পরিবেষণ করার জন্য বিবর্তিত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন অঞ্চলে এর উপকরণে কিছু পরিবর্তন এসেছে, যেমন কোথাও আচার বেশি দেওয়া হয় আবার কোথাও ভেষজ উপাদানের প্রাধান্য বেশি থাকে। এটি এখন আন্তর্জাতিক রন্ধনশৈলীতে এক ক্লাসিক কন্ডিমেন্ট হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।