জেলি ডোনাট
ইস্ট দিয়ে তৈরিবেক করা খাবার

পুষ্টির মূল তথ্য

জেলি ডোনাট — ইস্ট দিয়ে তৈরি

ভাজাসম্পূর্ণ
প্রতি
(85g)
5.01gপ্রোটিন
33.15gমোট শর্করা
15.9gমোট চর্বি
ক্যালরি
289 kcal
খাদ্যআঁশ
2%0.76g
থায়ামিন (B1)
22%0.27mg
সেলেনিয়াম
19%10.63μg
সোডিয়াম
16%386.75mg
প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড (B5)
14%0.74mg
ফোলেট
14%57.8μg
কপার
12%0.12mg
নিয়াসিন (B3)
11%1.82mg
রিবোফ্লাভিন (B2)
9%0.12mg

জেলি ডোনাট

ভূমিকা

জেলি ডোনাট বা জ্যাম ডোনাট হলো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি মিষ্টান্ন, যা তার তুলতুলে নরম গঠন এবং ভেতরকার মিষ্টি স্বাদের জন্য সমাদৃত। এটি মূলত খামির দিয়ে তৈরি ময়দার খামিরকে গোল বা লম্বাটে আকারে ডুবো তেলে ভেজে প্রস্তুত করা হয়। ডোনাটের কেন্দ্রস্থলে থাকে ফলের তৈরি মিষ্টি জেলি বা জ্যামের সুস্বাদু পুর, যা প্রতিটি কামড়ে এক অনন্য স্বাদের ভারসাম্য নিয়ে আসে।

এই খাবারটি তার চমৎকার সোনালী রঙের জন্য পরিচিত, যা ভাজার সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত হয়। ডোনাটের উপরিভাগে প্রায়শই চিনির গুঁড়ো বা দানাদার চিনির প্রলেপ দেওয়া থাকে, যা এর মিষ্টি ভাবকে আরও বাড়িয়ে তোলে। আধুনিক বিশ্বে এটি শুধু একটি জলখাবার নয়, বরং উদযাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

রান্নায় ব্যবহার

জেলি ডোনাট তৈরির মূল কৌশল হলো খামির বা ইস্টের সঠিক ব্যবহার, যা একে ভেতর থেকে হালকা ও বাতাসি করে তোলে। ময়দা, দুধ এবং মাখনের মিশ্রণে তৈরি ডো-টিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফুলে উঠতে দিতে হয়। এরপর সেটিকে গরম তেলে সাবধানে ভাজা হয় যাতে বাইরের অংশটি মুচমুচে কিন্তু ভেতরটা অত্যন্ত নরম থাকে। ভাজা শেষ হলে একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে তাতে স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি বা ব্লুবেরির জ্যাম ভরা হয়।

চায়ের কাপ বা এক গ্লাস কফির সাথে জেলি ডোনাট এক অনবদ্য জুটি তৈরি করে। অনেকে এটিকে সকালের জলখাবারের চেয়ে বিকেলের হালকা নাস্তা হিসেবে বেশি পছন্দ করেন। এর মিষ্টি ও টক স্বাদের জেলি ভাজা ডোনাটের তেলের মৃদু স্বাদকে চমৎকারভাবে প্রশমিত করে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্যাফে এবং বেকারিগুলোতে এখন এই ডোনাটের অনেক আধুনিক সংস্করণ দেখা যায়। কোথাও কোথাও জ্যামের স্বাদে নতুনত্ব আনতে মশলাযুক্ত ফলের মিশ্রণ বা চকলেট সসের সাথে এর পরিবেশন বেশ জনপ্রিয়। উৎসবের মরসুমে এটি বন্ধু ও পরিবারের সাথে ভাগ করে নেওয়ার একটি প্রিয় খাবার।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

জেলি ডোনাট মূলত কার্বোহাইড্রেট এবং শক্তির একটি দ্রুত উৎস, যা শরীরে তাৎক্ষণিক কর্মক্ষমতা প্রদান করতে সাহায্য করে। এতে থাকা থায়ামিন এবং নিয়াসিন জাতীয় বি-ভিটামিনগুলি বিপাক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে, যা আমাদের শক্তি উৎপাদন ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজের জন্য সহায়ক। এছাড়া এতে থাকা সামান্য পরিমাণে সেলেনিয়াম ও কপার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু এনজাইম তৈরিতে সহায়তা করে।

যেহেতু জেলি ডোনাট একটি ভাজা খাবার এবং এতে চিনির পরিমাণ বেশ কিছুটা বেশি থাকে, তাই এটি উচ্চ ক্যালোরি সম্পন্ন একটি মিষ্টি হিসেবে পরিগণিত হয়। পুষ্টিবিদরা একে একটি সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাঝে মাঝে খাওয়ার মতো 'ট্রিট' বা আনন্দের খোরাক হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় এই ধরণের খাবার উপভোগ করা একটি সামগ্রিক ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাত্রার অংশ হতে পারে।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

ডোনাটের উৎপত্তির ইতিহাস বেশ প্রাচীন এবং কিছুটা ধোঁয়াশাচ্ছন্ন, তবে এর বর্তমান রূপটি মূলত উত্তর ইউরোপীয় এবং আমেরিকান রন্ধনশৈলীর মেলবন্ধনে বিকশিত হয়েছে। সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে ওলন্দাজ বসতি স্থাপনকারীরা আমেরিকায় 'অয়লিকুক' বা তেলের কেক নিয়ে এসেছিলেন, যা আজকের ডোনাটের পূর্বসূরী হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে জেলি ভরা ডোনাট বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বড় শহরগুলোতে। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ এবং সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে এটি বিভিন্ন দেশে তার নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমানে এটি এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও ক্যাফে সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।