গ্রেপফ্রুট
পানিতে সংরক্ষিতফল

পুষ্টির মূল তথ্য

টিনজাতশাঁস
প্রতি
(244g)
1.42gপ্রোটিন
22.33gমোট শর্করা
0.24gমোট চর্বি
ক্যালরি
87.84 kcal
খাদ্যআঁশ
3%0.98g
ভিটামিন C
59%53.19mg
কপার
18%0.16mg
থায়ামিন (B1)
7%0.1mg
পটাশিয়াম
6%322.08mg
প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড (B5)
5%0.29mg
ম্যাগনেসিয়াম
5%24.4mg
আয়রন
5%1mg
ফোলেট
5%21.96μg

গ্রেপফ্রুট

ভূমিকা

গ্রেপফ্রুট বা বাতাবি লেবু হলো একটি অত্যন্ত সতেজ ও পুষ্টিকর সাইট্রাস ফল, যা তার স্বতন্ত্র টক-মিষ্টি স্বাদের জন্য সমাদৃত। যদিও এটি দেখতে অনেকটা কমলা লেবুর মতো, তবে এর আকার এবং স্বাদের গভীরতা একে অনন্য করে তোলে। এই ফলটি মূলত জাম্বুরা পরিবারের একটি সদস্য, যা তার উজ্জ্বল বর্ণ এবং সতেজ ঘ্রাণের জন্য পরিচিত।

প্রকৃতিতে এই ফলের বিভিন্ন প্রকরণ দেখা যায়, যার মধ্যে হালকা হলুদ থেকে শুরু করে গাঢ় লাল রঙের শাঁসযুক্ত গ্রেপফ্রুট অন্যতম। এর খোসার নিচে থাকা রসালো কোষগুলো একাধারে তৃপ্তিদায়ক এবং সতেজ। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ এর জলীয় অংশ শরীরকে আর্দ্র রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

রান্নায় ব্যবহার

গ্রেপফ্রুট সাধারণত সরাসরি কাঁচা অবস্থায় খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য। সালাদ তৈরিতে এর টুকরোগুলো ব্যবহার করলে তাতে এক চমৎকার টক ভাব ও সতেজতা যোগ হয়। অনেক সময় সকালে প্রাতরাশের টেবিলে একে অর্ধেক করে কেটে চামচ দিয়ে খাওয়া হয়, যা এক দীর্ঘস্থায়ী সতেজ অনুভূতি প্রদান করে।

এর রস বিভিন্ন পানীয় এবং মকটেল তৈরির জন্য এক চমৎকার উপাদান হিসেবে কাজ করে। লেবুজাতীয় ফলের মধ্যে এর অনন্য স্বাদ অনেক ডেজার্ট এবং বেকিং রেসিপিতেও ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। সামুদ্রিক মাছের ডিশ বা গ্রিলড চিকেনের সঙ্গেও গ্রেপফ্রুটের সাইট্রাস ফ্লেভার দারুণ মানানসই।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

গ্রেপফ্রুট মূলত ভিটামিন সি-এর এক চমৎকার উৎস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়তা করে। নিয়মিত এই ফল গ্রহণ ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে এবং ক্ষত সারাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়াও এতে থাকা কপার শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

এই ফলে বিদ্যমান পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে ক্যালরির মাত্রা বেশ কম থাকায় এটি একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর জলখাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। এর প্রাকৃতিক তন্তু এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টগুলো শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

গ্রেপফ্রুটের উৎপত্তি রহস্যময়, তবে মনে করা হয় এটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বার্বাডোজে প্রাকৃতিকভাবে কমলা এবং পোমেলো বা বাতাবি লেবুর সংকরায়ণের ফলে উদ্ভূত হয়েছিল। শুরুতে এটিকে কেবল কৌতূহল বা সৌন্দর্যবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে বাগানে রোপণ করা হতো।

পরবর্তীতে উনিশ শতকের দিকে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিশ্বের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোতে এর ব্যাপক উৎপাদন লক্ষ্য করা যায়। ঐতিহাসিকভাবে এটি তার ঔষধি গুণাবলীর কারণে বিভিন্ন সংস্কৃতির খাদ্যাভ্যাসে স্থান করে নিয়েছে।