গারল্যান্ড ক্রিসান্থেমাম
শাকসবজি

পুষ্টির মূল তথ্য

গারল্যান্ড ক্রিসান্থেমাম

সেদ্ধকুচি করাপাতালবণহীন
প্রতি
(100g)
1.64gপ্রোটিন
4.31gমোট শর্করা
0.09gমোট চর্বি
ক্যালরি
20 kcal
খাদ্যআঁশ
8%2.3g
ভিটামিন K (ফাইলোকুইনোন)
118%142.7μg
ভিটামিন C
26%23.9mg
আয়রন
20%3.74mg
ভিটামিন E
16%2.5mg
ম্যাঙ্গানিজ
15%0.35mg
কপার
14%0.13mg
ভিটামিন A (RAE)
14%129μg
ফোলেট
12%50μg

গারল্যান্ড ক্রিসান্থেমাম

ভূমিকা

গারল্যান্ড ক্রিসান্থেমাম, যা সাধারণত চন্দ্রমল্লিকা শাক বা খাদ্যযোগ্য চন্দ্রমল্লিকা নামে পরিচিত, এক অনন্য শাকজাতীয় উদ্ভিদ। যদিও চন্দ্রমল্লিকা ফুল তার সৌন্দর্যের জন্য সমাদৃত, এই নির্দিষ্ট প্রজাতির পাতাগুলো এর সুস্বাদু ও পুষ্টিকর গুণের জন্য এশীয় রান্নায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর পাতাগুলো বেশ সতেজ এবং হালকা সুগন্ধিযুক্ত, যা সাধারণ শাকের থেকে এটিকে আলাদা করে তোলে।

এটি মূলত একটি শীতকালীন সবজি এবং এর সতেজ সবুজ পাতাগুলি যেকোনো খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম। এর পাতাগুলি বেশ কোমল হয়, ফলে খুব দ্রুত রান্না করা যায়। এর স্বতন্ত্র স্বাদ এবং মৃদু সুগন্ধ একে ভোজনরসিকদের কাছে বিশেষ করে তোলে।

রান্নায় ব্যবহার

চন্দ্রমল্লিকা শাক রান্নার সবচেয়ে সাধারণ উপায় হলো সেদ্ধ করা বা হালকা ভাপে রান্না করা। এতে পাতাগুলোর সতেজতা এবং পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। ভাপে সেদ্ধ করার পর সামান্য তেল, রসুন বা মরিচ দিয়ে সাঁতলে নিলে এর স্বাদে অনন্য মাত্রা যোগ হয়।

এর স্বাদ কিছুটা ভেষজ এবং সামান্য তিতকুটে ভাব থাকতে পারে, যা বিভিন্ন মশলা ও সরিষার তেলের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। এটি স্যুপে ব্যবহার করলে ঝোলের স্বাদ অনেক বেড়ে যায়। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের স্টু বা ভাজাভুজিতে এটি একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন হিসেবে কাজ করে।

ঐতিহ্যগতভাবে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এটি হটপট বা নিরামিষ তরকারির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশে বা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনেক সময় এটি ডালের সাথে মিশিয়ে বা ভাজি হিসেবে পরিবেশন করা হয়, যা ভাতের সাথে অত্যন্ত সুস্বাদু লাগে।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

গারল্যান্ড ক্রিসান্থেমাম হলো ভিটামিন কে এবং ভিটামিন সি-এর একটি চমৎকার উৎস। ভিটামিন কে হাড়ের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং কোষের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

এই শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ভিটামিন এ থাকে, যা রক্তাল্পতা দূর করতে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এটি পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করতে কার্যকর। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ কর্মক্ষমতা উন্নত হয়।

এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ শরীরের বিপাকীয় ক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে। সব মিলিয়ে, ক্যালোরিতে কম অথচ প্রয়োজনীয় পুষ্টিতে ভরপুর এই শাকটি সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের জন্য একটি আদর্শ সবজি।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

গারল্যান্ড ক্রিসান্থেমাম মূলত পূর্ব এশিয়ার উদ্ভিদ। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, চীন, জাপান এবং কোরিয়ার কৃষি ব্যবস্থায় শত শত বছর ধরে এই শাকের চাষ হয়ে আসছে। প্রাচীনকাল থেকেই এশীয় চিকিৎসাবিদ্যায় এই গাছের বিভিন্ন অংশের ব্যবহার ছিল।

সময়ের সাথে সাথে এটি এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। রান্নায় এর বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ একে সাদরে গ্রহণ করেছে। আজকের দিনে বিশ্বজুড়ে আধুনিক রন্ধনশিল্পেও এই পুষ্টিকর শাকটির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।