ইভাপোরেটেড মিল্ক
২% ফ্যাট ভিটামিন এ ও ডি যুক্তদুগ্ধজাত খাবার

পুষ্টির মূল তথ্য

ইভাপোরেটেড মিল্ক — ২% ফ্যাট ভিটামিন এ ও ডি যুক্ত

প্রতি
(32g)
2.1gপ্রোটিন
4.96gমোট শর্করা
0.63gমোট চর্বি
ক্যালরি
33.705 kcal
রিবোফ্লাভিন (B2)
7%0.1mg
ক্যালসিয়াম
6%84.11mg
ভিটামিন C
5%5.04mg
ফসফরাস
5%63.94mg
প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড (B5)
4%0.2mg
জিঙ্ক
2%0.24mg
ভিটামিন B12
2%0.05μg
পটাশিয়াম
2%95.44mg

ইভাপোরেটেড মিল্ক

ভূমিকা

ইভাপোরেটেড মিল্ক বা বাষ্পীভূত দুধ হলো এমন এক ধরণের দুগ্ধজাত পণ্য, যা সাধারণ দুধ থেকে প্রায় অর্ধেক জল শুকিয়ে তৈরি করা হয়। এটি দেখতে অনেকটা ঘন এবং ক্রিমযুক্ত, যা সাধারণ তরল দুধের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ স্বাদ প্রদান করে। দীর্ঘকাল সংরক্ষিত রাখা যায় বলে এটি বিশ্বজুড়ে রান্নাঘরে একটি অপরিহার্য উপকরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাধারণত টিনজাত অবস্থায় পাওয়া এই দুধের স্থায়িত্ব এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ। উচ্চ তাপমাত্রায় বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর ঘনত্ব বাড়ানো হয়, যার ফলে এতে কোনো বাড়তি চিনি যোগ করার প্রয়োজন পড়ে না। রান্নার ক্ষেত্রে এটি দুধ ও ক্রিমের মাঝামাঝি একটি চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করে, যা যেকোনো খাবারের টেক্সচারকে মসৃণ ও ঘন করতে সাহায্য করে।

রান্নায় ব্যবহার

ইভাপোরেটেড মিল্ক তার বহুমুখী ব্যবহারের জন্য পরিচিত। এর ঘন ও ক্রিমযুক্ত গুণাবলি স্যুপ, সস এবং বিভিন্ন গ্রেভিকে এক অনন্য মাত্রা দেয়। অনেক সময় রান্নায় ভারী ক্রিমের পরিবর্তে এটি ব্যবহার করা হয়, যা খাবারকে কিছুটা হালকা অথচ সুস্বাদু করে তোলে।

মিষ্টি জাতীয় খাবারে ইভাপোরেটেড মিল্কের জুড়ি মেলা ভার। পায়েস, কাস্টার্ড, আইসক্রিম বা পুডিং তৈরিতে এটি ঘন টেক্সচার নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। এছাড়া চা বা কফির স্বাদে গভীরতা আনতে অনেক স্থানেই এটি ব্যবহার করা হয়, যা পানীয়টিকে অধিকতর সুস্বাদু করে তোলে।

ঐতিহ্যগতভাবে, ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন ডেজার্ট এবং কনফেকশনারি আইটেমে এই ঘন দুধের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। বাড়িতে তৈরি মিষ্টি বা কেকের ব্যাটারে এটি ব্যবহার করলে তা অনেক বেশি নরম ও ময়েস্ট হয়। রান্নায় ব্যবহারের আগে টিন ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিলে এটি মসৃণভাবে মিশে যায়।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

ইভাপোরেটেড মিল্ক ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের একটি ভালো উৎস, যা হাড়ের গঠন মজবুত রাখতে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা রাইবোফ্ল্যাভিন এবং ভিটামিন বি১২ দেহের শক্তি বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং সামগ্রিক শারীরিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এটি একটি উচ্চ ঘনত্বের খাদ্য উপাদান হিসেবে পরিচিত, তাই পুষ্টির পাশাপাশি এতে শক্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। এর সমৃদ্ধ স্বাদ এবং ঘন গঠন যে কোনো খাবারের পুষ্টিমান বাড়িয়ে তোলার একটি সহজ উপায় হতে পারে, তবে ব্যবহারের সময় ক্যালরির ভারসাম্য বজায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে দুধ সংরক্ষণ করার প্রয়োজন থেকে ইভাপোরেটেড মিল্কের উদ্ভাবন হয়। তৎকালীন সময়ে রেফ্রিজারেশন বা হিমাগারের অভাব ছিল, তাই দুধ দীর্ঘক্ষণ ভালো রাখার জন্য জলীয় অংশ বাষ্পীভূত করার প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়। ১৮৫০-এর দশকে এই প্রক্রিয়াটি প্রথম পেটেন্ট করা হয়।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে এটি বিশ্বজুড়ে রান্নার একটি প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দুগ্ধজাত পণ্যের অভাব দেখা দিলে ইভাপোরেটেড মিল্কের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়, কারণ এটি পরিবহনে সহজ এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের উপযোগী। বর্তমানে এটি আধুনিক জীবনধারায় এক নির্ভরযোগ্য এবং বহুমুখী দুগ্ধজাত উপকরণ হিসেবে নিজের স্থান সুসংহত করেছে।