হলুদ টমেটো
শাকসবজি

পুষ্টির মূল তথ্য

হলুদ টমেটো

কাঁচাWholeসম্পূর্ণ
প্রতি
(139g)
1.36gপ্রোটিন
4.14gমোট শর্করা
0.36gমোট চর্বি
ক্যালরি
20.85 kcal
খাদ্যআঁশ
3%0.97g
কপার
15%0.14mg
ভিটামিন C
13%12.51mg
ফোলেট
10%41.7μg
নিয়াসিন (B3)
10%1.64mg
পটাশিয়াম
7%358.62mg
ম্যাঙ্গানিজ
7%0.17mg
রিবোফ্লাভিন (B2)
5%0.07mg
থায়ামিন (B1)
4%0.06mg

হলুদ টমেটো

ভূমিকা

হলুদ টমেটো হলো টমেটো পরিবারের একটি চমৎকার বৈচিত্র্য, যা এর উজ্জ্বল সোনালী বর্ণ এবং অনন্য স্বাদের জন্য পরিচিত। পীত বা হলুদাভ টমেটো হিসেবে পরিচিত এই সবজিটি মূলত সাধারণ লাল টমেটোর মতোই পুষ্টিকর, তবে এতে অম্লতা কিছুটা কম থাকে। এর মনোহর রঙ যেকোনো খাবারের পাতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে, যা আমাদের খাবারের দৃশ্যমান উপস্থাপনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

প্রকৃতিতে এই টমেটোর রঙ কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এটি বিশেষ কিছু ফাইটোনিউট্রিয়েন্টের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। লাল টমেটোর তুলনায় এগুলি বেশ মিষ্টি এবং মৃদু স্বাদের হয়ে থাকে, যা সালাদ বা সতেজ পানীয় তৈরির জন্য আদর্শ। গৃহস্থালির রান্নাঘরে বা বাগানে চাষের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ এর মিষ্টি সুবাস এবং কোমল গঠন সব বয়সের মানুষের কাছেই উপভোগ্য।

রান্নায় ব্যবহার

হলুদ টমেটো কাঁচা খাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী, বিশেষ করে সালাদ বা স্যান্ডউইচে এটি সরাসরি ব্যবহার করলে এর প্রাকৃতিক মিষ্টতা ভালোভাবে বোঝা যায়। রান্নার ক্ষেত্রে এটিকে খুব অল্প আঁচে রান্না করা উচিত যাতে এর চমৎকার রঙ এবং সূক্ষ্ম স্বাদ অটুট থাকে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সবজির স্টু বা স্যুপে এটি ব্যবহার করলে খাবারের রঙে এক অনন্য সোনালী আভা আসে।

এই টমেটোর মৃদু স্বাদ অন্যান্য উপাদানের সাথে দারুণভাবে মিশে যায়, যেমন তাজা তুলসী পাতা, অলিভ অয়েল বা সামান্য সমুদ্রের লবণ। এটি বিশেষ করে সেই সব খাবারে ভালো মানায় যেখানে টমেটোর উজ্জ্বল অম্লতা ছাড়াই তার পুষ্টিগুণ যোগ করা প্রয়োজন। ঘরে তৈরি সস বা চাটনিতে হলুদ টমেটো ব্যবহার করলে একটি সুস্বাদু এবং দেখতে সুন্দর পরিবেশনা পাওয়া যায় যা সবার নজর কাড়ে।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

হলুদ টমেটো ভিটামিন সি এবং ফলিক অ্যাসিডের এক দুর্দান্ত উৎস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং কোষের পুনর্গঠনে সরাসরি সহায়তা করে। এতে থাকা বিভিন্ন বি-ভিটামিন যেমন নায়াসিন এবং বি৬ আমাদের শক্তির বিপাক প্রক্রিয়াকে সচল রাখে, ফলে দৈনন্দিন কাজে শরীর চনমনে থাকে। এই সবজিটি পটাশিয়ামের একটি চমৎকার আধার, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

এর পাশাপাশি এই টমেটোতে থাকা খনিজ উপাদান যেমন কপার এবং ম্যাঙ্গানিজ হাড়ের গঠন মজবুত করতে এবং এনজাইমের সঠিক কার্যকারিতায় সাহায্য করে। উচ্চ জলীয় উপাদান এবং আঁশ থাকায় এটি পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এর রঙিন পিগমেন্টগুলো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

ইতিহাস ও উৎপত্তি

টমেটোর আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকায়, তবে হাজার বছরের বিবর্তনে এর বহু জাতের উদ্ভব ঘটেছে যার মধ্যে হলুদ টমেটো অন্যতম। ঐতিহাসিকভাবে, অনেক প্রাচীন কৃষি সভ্যতায় বিভিন্ন রঙের টমেটো চাষ করা হতো, যার মধ্যে হলুদ জাতটি তার মৃদু স্বাদ এবং অনন্য বর্ণের কারণে স্থানীয় মানুষের খাদ্যতালিকায় বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল। গ্লোবাল ট্রেড এবং বীজ বিনিময়ের মাধ্যমে এই বিশেষ জাতটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

আধুনিক সময়ে কৃষিবৈজ্ঞানিক উন্নতির ফলে হলুদ টমেটোর বিভিন্ন হাইব্রিড জাত তৈরি হয়েছে যা অধিক ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধী। বিংশ শতাব্দীতে রান্নার বৈচিত্র্য বাড়ার সাথে সাথে শেফ এবং পুষ্টিবিদরা এই সবজির কদর বুঝতে শুরু করেন, যা আজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়েছে। বর্তমানে এটি বিশ্বব্যাপী অর্গানিক ফার্মিং এবং বাগান করার ক্ষেত্রে একটি প্রিয় পছন্দ হয়ে উঠেছে।